মানুষ কেন বাঁচতে চায়?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধুই "কারণ আমরা প্রাণী" নয়।
উত্তরটা অনেকটা এমন —
একটা শিশুর মতো,
যে জানে না কেন সে হাসছে,
তবুও হাসে।
একটা ভোরবেলার মতো,
যেখানে সূর্য ওঠে,
তুমি জানো না কেন সে উঠে,
তবুও সে ওঠে।
মানুষ বাঁচতে চায় কারণ, জীবন নিজেই এক ধরনের কবিতা।
যার প্রতিটি মুহূর্তে:
কখনো কান্না জমে থাকে গলার নিচে,
কখনো হঠাৎ এক চিলতে হাওয়া এসে মনে করিয়ে দেয়, "তুই এখনো বেঁচে আছিস।"
মানুষ বাঁচতে চায় কারণ কোনো একদিন কেউ বলেছিল "ভালোবাসি",
আর সেই শব্দটা তার ভিতরে আজও বেঁচে আছে —
একটা পুরোনো চিঠির মতো, যার কালি ফিকে, তবুও অর্থ ফুরায় না।
বেঁচে থাকা মানে শুধুই নিশ্বাস নেওয়া নয়।
এটা একধরনের যুদ্ধ —
কখনো নিজের বিষণ্ণতার সঙ্গে,
কখনো সময়ের সঙ্গে,
আর কখনো সেই নীরব একাকীত্বের সঙ্গে
যেটা ভিড়ের মধ্যেও গলা চেপে ধরে।
তবুও মানুষ বাঁচে, কারণ কোথাও কোনোদিন কেউ তাকে বুঝবে, এই বিশ্বাসে।
কখনো একটা গানের কথা শুনে মনে হয় —
"এইটা তো আমার গল্প!"
কখনো একটা অপরিচিত মানুষের হাসি মনে করিয়ে দেয়,
"জীবন এখনও সুন্দর হতে পারে।"
মানুষ বাঁচতে চায়, কারণ হয়তো সে আজও দেখেনি
শেষবার কেমন করে হাসে তার মা
শেষবার কেমন করে নামে বৃষ্টি, আর মাটি থেকে উঠে আসে স্মৃতির গন্ধ
শেষবার কেমন করে কেউ এসে বলে, "তুই একা না।"
শেষে, বাঁচতে চায় কারণ —
জীবন যদিও অনেকবার ভেঙেছে, তবুও মনের কোথাও একটা জায়গায় এখনো আলোটা নেভেনি।
অন্ধকারে বসে সে আলোটার অপেক্ষায় থাকে।
আর এটাই, হয়তো, বেঁচে থাকার আরেক নাম।







0 comments:
Post a Comment